শ্রমিক অসন্তোষ, বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও সুদহার বৃদ্ধি

আয় বাড়া সত্ত্বেও রেনাটার নিট মুনাফা কমেছে ৩৫ শতাংশ

গত বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে ওষুধ খাতের তালিকাভুক্ত কোম্পানি রেনাটা পিএলসির ব্যবসা থেকে আয় বেড়েছে প্রায় ১২ শতাংশ।

গত বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে ওষুধ খাতের তালিকাভুক্ত কোম্পানি রেনাটা পিএলসির ব্যবসা থেকে আয় বেড়েছে প্রায় ১২ শতাংশ। যদিও এ সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা প্রায় ৩৫ শতাংশ কমেছে। মূলত গত বছরের আগস্টে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সৃষ্ট শ্রমিক অসন্তোষ, বিদুৎ বিভ্রাট ও সুদহার বাড়ার কারণে কোম্পানিটির ব্যয় বেড়েছে; যার প্রভাবে আয়বৃদ্ধি সত্ত্বেও নিট মুনাফা কমে গেছে বলে জানিয়েছেন কোম্পানিটির কর্মকর্তারা।

অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি ২০২৪-২৫ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) রেনাটার আয় হয়েছে ২ হাজার ৮৭ কোটি টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ১ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা। এ সময়ে কোম্পানিটির আয় বেড়েছে ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ। প্রথমার্ধে কোম্পানিটির উৎপাদন ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ২০১ কোটি টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ১ হাজার ১ কোটি টাকা। তাছাড়া চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে কোম্পানিটির ৭৮ কোটি ৯১ লাখ টাকা আর্থিক ব্যয় হয়েছে, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৫৬ কোটি টাকা। ব্যয়বৃদ্ধির প্রভাবে গত বছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৪ দশমিক ৮০ শতাংশ কমে ১২৪ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ১০ টাকা ৯৩ পয়সা, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ১৬ টাকা ৫৭ পয়সা। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৯৭ টাকা ২৩ পয়সায়।

সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৩-২৪ হিসাব বছরে কোম্পানিটির পর্ষদ বিনিয়োগকারীদের জন্য ৯২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ৩১ টাকা ৫৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২০ টাকা ৪০ পয়সা। গত ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির সমন্বিত এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২৯৫ টাকা ৫৬ পয়সায়।

সমাপ্ত ২০২২-২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ৬২ দশমিক ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে রেনাটার পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির সমন্বিত নিট মুনাফা হয়েছে ২৩৪ কোটি টাকা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৫১১ কোটি টাকা। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ২০ টাকা ৪০ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৪৪ টাকা ৫৬ পয়সা। ওই বছরের ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২৬৬ টাকা ৮৭ পয়সায়।

কোম্পানিটির ঋণমান দীর্ঘমেয়াদে ‘ট্রিপল এ’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-ওয়ান’। ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন ও ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক গুণগত তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রত্যয়ন করেছে আলফা ক্রেডিট রেটিং লিমিটেড।

১৯৭৯ সালে পুঁজিবাজারে আসা রেনাটা পিএলসি ১৯৭২ সালে মার্কিন ওষুধ জায়ান্ট ফাইজারের একটি কোম্পানি হিসেবে বাংলাদেশে যাত্রা করে। ১৯৯৩ সালে ফাইজার স্থানীয় শেয়ারহোল্ডারদের কাছে তাদের মালিকানা বিক্রি করে চলে যায় এবং কোম্পানির নাম ফাইজার (বাংলাদেশ) লিমিটেডের বদলে হয় রেনাটা লিমিটেড। বর্তমান নাম রেনাটা পিএলসি। কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ২৮৫ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১১৪ কোটি ৬৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৩ হাজার ২৭২ কোটি ১৪ লাখ টাকা। কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ১১ কোটি ৪৬ লাখ ৯৬ হাজার ৪৯০। এর মধ্যে ৫১ দশমিক ২৯ শতাংশ উদ্যোক্তা পরিচালক, ২০ দশমিক ৯০ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, ২১ দশমিক ১৮ শতাংশ বিদেশী বিনিয়োগকারী ও বাকি ৬ দশমিক ৬৩ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।

গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) রেনাটার শেয়ার সর্বশেষ ৫৫৩ টাকা ২০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। গত এক বছরে কোম্পানিটির শেয়ার দর ৫৫০ টাকা থেকে ১ হাজার ২১৭ টাকা ৯০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করেছে।

আরও